11 July 2025

সুরা ফাতিহা পবিত্র কুরআনের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরা।

সুরা ফাতিহা পবিত্র কুরআনের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরা। এর অনেক নাম রয়েছে, যেমন: উম্মুল কিতাব (কিতাবের জননী), উম্মুল কুরআন (কুরআনের জননী), সাব'উল মাসানি (বারবার পঠিত সাত আয়াত), শেফা (আরোগ্য), রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক), ইত্যাদি। এর ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম, যা অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। নিচে এর কিছু উল্লেখযোগ্য ফজিলত তুলে ধরা হলো:

১. নামাজের স্তম্ভ:

সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ অসম্পূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি তার নামাজে সুরা ফাতিহা পড়ে না, তার নামাজ অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ।" (মুসলিম)। এটি নামাজের প্রতিটি রাকাতে পাঠ করা ফরজ। এর মাধ্যমে নামাজ আল্লাহ তাআলার সাথে বান্দার এক বিশেষ কথোপকথন হয়ে ওঠে।

২. কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সুরা:

সুরা ফাতিহা কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সুরা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সুরা শিখাবো না কি?" তারপর তিনি সুরা ফাতিহা উল্লেখ করেন। (বুখারী, তিরমিজি)। এর কারণ হলো, এই সুরাটি কুরআনের সকল মৌলিক বিষয়কে সংক্ষিপ্ত আকারে ধারণ করে।

৩. শিফা বা আরোগ্য:

সুরা ফাতিহাকে 'শেফা' বা আরোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি শারীরিক ও আত্মিক উভয় ধরনের রোগের জন্য মহৌষধ। বিভিন্ন হাদিসে সুরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে রোগ সারানোর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এর দ্বারা ঝাড়ফুঁকের অনুমোদন দিয়েছেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) এর ঘটনা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে তিনি সুরা ফাতিহা পড়ে সাপের বিষ নামিয়েছিলেন। (বুখারী, মুসলিম)।

৪. বিশেষ নূর বা আলো:

সুরা ফাতিহা এবং সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এমন দুটি বিশেষ নূর, যা পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। এক হাদিসে এসেছে, একজন ফেরেশতা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এই সুরা ও আয়াতগুলোর সুসংবাদ দেন এবং বলেন যে, এগুলোর প্রতিটি হরফের জন্য নেকী রয়েছে। (মুসলিম)।

৫. আল্লাহর সাথে কথোপকথন:

হাদিসে কুদসীতে এসেছে যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আমি সালাতকে (সুরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দু'ভাগে ভাগ করেছি। অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চায়, তাই পাবে।" যখন বান্দা 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' বলে, তখন আল্লাহ বলেন, "আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।" এভাবে প্রতিটি আয়াতের জবাব আল্লাহ তাআলা স্বয়ং দেন। (মুসলিম)। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।

৬. দোয়া কবুলের মাধ্যম:

সুরা ফাতিহাতে আল্লাহর প্রশংসা, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা, তার সাহায্য চাওয়া এবং সরল পথের জন্য দোয়া করা হয়। এটি একটি جامع দু'আ যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে এবং বান্দার সকল প্রয়োজন পূরণে সহায়ক হয়। হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি এক হাজার বার সুরা ফাতিহা পাঠ করলে তার বিপদ দূর হয়ে যায়।

৭. সর্বব্যাপ্ত অর্থ:

সুরা ফাতিহা আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ, তাঁর গুণাবলী, বিচার দিবসের বর্ণনা, এবং হেদায়েতের জন্য বান্দার আকুতিকে একত্রিত করে। এটি একজন মুসলমানের জীবনে অনুসরণীয় আদর্শ ও পথনির্দেশনার সংক্ষিপ্ত রূপ।

নিয়মিত সুরা ফাতিহা পাঠ করা এবং এর অর্থ অনুধাবন করা মুমিনের জীবনে শান্তি, বরকত ও কল্যাণ বয়ে আনে। এটি শুধু নামাজকে পূর্ণতা দান করে না, বরং আল্লাহর সাথে বান্দার আত্মিক সম্পর্ককেও মজবুত করে।

 

Don't track my visit

 Don't track my visit

Theme - Mobile - Desktop

 Theme - Mobile - Desktop

 টাইমলাইনে রেখে দিতে পারেন কাজে লাগবে ইনশাআল্লাহ।              খতমে শিফা পড়ার নিয়ম। ১। ইস্তেগ্ফার- ১১বার ২। সূরা ফাতিহা- ১০০ বার ৩। দরূদ শ...

Popular Post